বিজ্ঞানী গুল্লু সাহেব, দীর্ঘদিন পয়সা কামাইবার ধান্ধায় বহু কিছু করিয়াছেন। কিন্তু ইদানীং আর তার গ্রহ ভাল ঠেকিতেছে না। তার ভাতে টান পরিয়াছে। আগে দেশের বাইরে কাজ করিতেন। সেইখানে ঠিক কদর পাইতেছিলেন না। নিজের কদর বুঝাইবার লোভে তিনি দেশে আসিয়া ইংরেজী সিনেমা দেখিয়া এবং বিভিন্ন জনের লেখা পড়িয়া সাইন্স সিকশন লেখা শুরু করিলেন, এবং বলাই বাহুল্য তিনি ব্যাপক ফর্মে চলিয়া আসিলেন।
সেই ফর্ম তিনি দীর্ঘদিন সাফল্যের সহিত ধরিয়া রাখিলেন। ফর্মের সহিত তিনি কিছু ফর্মূলা বানাইলেন। সেই ফর্মূলা অনুসারে তিনি কিছু রস বানাইয়া, রসে চুবাইয়া মিলিকে একবার ট্রিলি বলিয়া, আরেকবার রাতুল্কে ট্রাতুল বানাইয়া, সেই একই রস নতুন নতুন বোতলে সুন্দর সুন্দর মোড়কে ভরিয়া উচ্চমূল্যে খাওয়াইতে লাগিলেন। আর পাঠকসকল মুগ্ধ হইয়া তাহা খাইয়া খাইয়া ডিগবাজী খাইতে লাগিলো।
যাহাই হোক, আর কত পারিবেন? পাঠকেরা একদিন ডিগবাজী খাওয়া বন্ধ করিয়া দিলে, তিনিও সাবধানী হইয়া গেলেন। আর না, এইসব চাপাবাজী। এখন নিজের ফীল্ডে কিছু করিয়া দেখাই দিবেন, তিনি কি জিনিষ!!!
নিজের ফিল্ড-এ তিনি এক্কেবারে কম পটু নন। তিনি পরিকল্পনা করিলেন, দীর্ঘদিন যেইসব চাপাবাজী করিয়াছেন, তাহার কিছু নমুনা প্রদর্শন করিবেন। তিনি একখানা রোবট বানাইবেন।
এখন গল্পে তো বহুত বলিয়াছেন, রোবটের বুদ্ধি থাকিবে, এই থাকিবে সেই থাকিবে। তাহলে নিজের তৈয়ার করা রোবটেও যদি এইসকল গুণাবলী না থাকে, তাহলে কেমন জানি হয়ে যায় না ব্যাপারটা। তাই তিনি সকল বৈশিষ্ট্য বজায় রাখিবার পরিকল্পনা করিলেন।
ভাল, খুব ভাল।
তিনি কাজ শুরু করিলেন। রোবটের নাম রাখা হইলো, গোবট। ভালবাসাকে গুল্লু সাহেব বড়ি ভালবাসেন। তাই তিনি তার সাইন্স ফিকশানে যত না সাইন্স রাখিতেন, তার চেয়ে বেশি প্রেম রাখিতেন। তাই পড়িয়া অল্প স্বল্প বাচ্চারা পাতলা কাপড়ের, রূপালী চুলের পাতলা পাতলা মেয়ের স্বপ্নে বিভোর হইয়া যাইতো।
তাই এখন, গোবটেরও প্রথম বৈশিষ্ট্য হইবে প্রেম, ইহা অতি সহজেই অনুমেয়। তিনি শুরু করিলেন।
প্রথমেই তিনি গোবটের ঘিলুর সাথে ফটো সংবেদী চক্ষু যোগ করিলেন। তারপর মস্তিষ্কে ঢুকাইলেন, একগাদা ভালবাসা। মনে মনে হাসিলেন গুল্লু, ” সুন্দরী নারী দেখিয়া এই ব্যাটার যন্ত্র ভরা মস্তিষ্কে সিগ্ন্যালের ছুটাছুটি শুরু হইয়া যাইবে।”
গুল্লুর বউ বলিলেন, “দেখো শুধু দেখিলেই ভালবাসা হইবেনা। মিষ্টি মধুর আলাপ বুঝিতে হইবে।”
তাই শুনে গুল্লু গোবটের সাথে জুড়িয়া দিলেন, শব্দ সংবেদী কর্ণ। মিষ্টি আলাপ শুনিলে গোবটের রোবটিক মন ফুরফুরে হইয়া যাইবে।
তারপর তিনি বউয়ের সাথে পুনরায় আলাপ করিলেন।
বউ বলিল, শুধু কি আলাপেই হয়? ঘ্রাণ পাইতে হইবে। সুন্দরী রমনীর সুন্দর ঘ্রাণ পাইয়া রোবটের প্রেমের গতি কয়েক হাজার পার পিকোসেকেন্ড বাড়িয়া যাইতে হইবে।
বউয়ের কথা যুক্তি আছে ভাবিয়া তিনি, গোবটের সাথে ঘ্রাণ অনুভব করার সেন্সর বসাইয়া দিলেন(এটিকে আমি নাক বলিয়ায় সম্বোধন করিব)।
তারপরে বউকে বলিলেন, “কি বউ এইবার হবেতো?”
বউ বলিল, “দেখো, পুরুষ রোবটই যখন বানাইতেছ, তাহলে তাকে পুরুষ বানাওনা কেন? তাকে কামনা করার সামর্থ্য না দেয়া অমানবিক! আর তাতে প্রেম বাড়িবে বই কমিবে না।”
গুল্লু মনে মনে বউয়ের তারিফ করিলেন, “বউ আমার এত্ত ইশমার্ট!!”
যথারীতি বউকে মানিয়া, তিনি গোবটকে সেক্স বুঝিবার সামর্থ্য প্রদান করিলেন। নারী যতই রমনীয় হইবে, গোবট ততই কামুক হইবে। গোবট যতই কামুক হইবে, তার অনুভূতি ততই তীব্র হইবে। তার প্রতিটি সেন্সর আরো প্রখর হইবে।
গোবট সম্পূর্ণ হইলো। গোবটের এখন পরীক্ষার পালা।
পরীক্ষার জন্যে গুল্লু ঠিক করিলেন, অতি সুন্দরী কাউকে আনিবেন। গুল্লুর হটলিঙ্কের দৌড়ে তিনি ক্যাট্রিনা কাইফকে ম্যানেজ করিয়া ফেলিলেন।
সুন্দরী ক্যাট্রিনা আসিল তাহার সুন্দর মিনি স্কার্ট আর টপ্স পরিয়া। পরীক্ষার জন্যে গোবটকে আর ক্যাট্রিনাকে একখানা রুমে ৩ ঘন্টা রাখিবার পরিকল্পনা করিলেন গুল্লু। তাদের ঢুকানো হইলো গুল্লুর শোবার ঘরে।
ক্যাট্রিনা বসিল, বিছানায়, আর গোবট তাহার চেয়ার নিয়া সামনে বসিল।
গোবট ক্যাট্রিনাকে জিজ্ঞাসা করিল, “কেমন আছেন?”
“ভাল”, গোবটের চোখে নিজের মায়াবী চোখ রাখিয়া বলিল ক্যাট্রিনা।
গোবট নিজেকে হারাইয়া ফেলিল। কি মধুর এক অনুভূতি তাহার ঘিলুর সিগ্ন্যালে তোলপাড় শুরু করিয়া দিয়াছে।
এমনি ভাবে মায়াবী চোখে আর মধু মাখা গলায় ঘন্টাখানেক আলাপ চলিল, আর গোবটের মনের পালে ফুরফুর করিয়া ভালবাসার বাতাস বহিয়া চলিল, তাকে নিয়া চলিল প্রেম সমুদ্রের মাঝখানে।
দীর্ঘক্ষন পার হইয়াছে। বদ্ধ রুমে আলাপ করিতে করিতে ক্যাট্রিনার হাসফাস লাগিতেছে। তাহার দম বন্ধ হইয়া আসিতেছে। তাহার টাইট টপ্সের নিচে পেটে সামান্য চুল্কুনি হইতেছে। সহ্য করিতে না পারিয়া, ক্যাট্রিনা ভাবিল ইহা তো রোবটই, তাহার সামনে আবার শরম কি? এই ভাবিয়া টপ্সের অল্পখানি উপরে তুলিয়া সে চুল্কুনি থামাইলো। ইহা দেখিয়া গোবটের তো মাথা খারাপ অবস্থা।এতক্ষন ছিল ভালবাসা, এখন তাহার সাথে আবার নতুন অনুভূতির সংযোগ। গোবটের ঘিলুতে কিছু উত্তেজনা ভর করিল। এইভাবেই সে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে রইলো ক্যাট্রিনার পানে। অল্প স্বল্প আলাপ চলিতেছে।
আরো এক ঘন্টা পার হইলো।
ইতোমধ্যে ক্যাট্রিনার স্কার্টে সামান্য অস্বস্তি হইতেছে। সে ভাবিল, রোবটের সামনে এত ভদ্রতার দরকার কি?(সে তো আর জানেনা গোবটের মনে কি চলিতেছে।)তাই সে স্কার্টখানা একটু উপরে তুলিয়া বসিল।এতে গোবটের মনে ক্যাট্রিনার রমনীয়তা বাড়িয়া, ঘিলুতে কামুকতার ফ্রিকোয়্যান্সির ছুটাছুটি কয়েকগুন বাড়াইয়া দিল। গোবটের কাছে ক্যাট্রিনার প্রতিটা কথা আরো মধুমাখা মনে হইতে লাগিলো। প্রতি মুহুর্তে গোবটের উত্তেজনা বাড়িয়া চলিল। আর যথা নিয়মে তাহার প্রতিটা সেন্সর আরো সংবেদনশীল হইয়া উঠিল।
আরো আধা ঘন্টা পার হইলে ক্যাট্রিনা অস্থির হইয়া উঠিল। তাহার বায়ুর বেগ চাপিয়াছে! কিন্তু বেচারী কেতাদুরস্ত আদব কায়দা জানা নায়িকা।তাই সংকোচে বেগ চাপিয়া সে গল্প করিতে লাগিলো।
বেগ চাপিতে গিয়া ক্যাট্রিনা পা জরাইয়া ফেলিল নিজের। তা দেখিয়া গোবটের অবস্থা আর কে বুঝে! ভয়ংকর পরিমানে গোবট কামনা করিতে লাগিলো ক্যাট্রিনাকে। উত্তেজনায় গোবট-এর সেন্সরগুলো সংবেদনশীল হইতে আরো সংবেদনশীল হইয়া উঠিল।ক্যাট্রিনার প্রতিটা বাক্য এখন রস হইয়া তাহার কর্ণে ঢুকিতেছে, ক্যাট্রিনার প্রতিটা কোষের ঘ্রাণ গোবট তার ঘিলুর রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনুভব করিতেছে।
আরো মিনিট দশেক পরে, যখন ক্যাট্রিনা বেগ চাপিতে না পারিয়া দুহাত পেটে রাখিয়া, পা দু’খানা দু’পায়ের সাথে জড়াইয়া নিজের শরীরখানা বক্র করিয়া ফেলিল, তখন গোবট উত্তেজনার শেষ শিখরে পৌছায়া গেলো। তাহার অনুভূতির তীব্রতা চরমে উঠিল। সেই অস্থিরতায় গোবটের সেন্সরগুলো অনুভুতির তীব্রতা সহ্য করিতে বেগ পাইতেছে, তখনই ফুসসসসসসসসসস.........
পাদটীকাঃ
শোবার ঘর থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনিয়া গুল্লু সেই ঘরে ছুটিয়া গেলেন। দেখিলেন গোবট বেচারার নাক উড়িয়া গিয়াছে, সেইখান হতে ভুসভুস করিয়া কাল ধোয়া বাহির হইতেছে। ক্যাট্রিনা ততক্ষনে বিছানার পাশে রাখা ড্রেসিং টেবিল হইতে সুগন্ধি-বোতল স্প্রে করিয়া দিয়াছে।
এই ফিকশনের সাথে কোন জীবিত বা মৃত ব্যক্তির বা রোবটের মিল নিতান্তই কাকতাল মাত্র
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন